দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান শুধু অভিনয়েই নয়, তার রুচিশীল ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের জন্যও প্রশংসিত। স্নিগ্ধ সৌন্দর্য, পরিমিত আচরণ ও সাহসী চিন্তাধারার মাধ্যমে জয়া বারবার প্রমাণ করেছেন—রূপ নয়, রুচিই আসল পরিচয়।
বাংলাদেশ থেকে কলকাতা—দুই প্রান্তের দর্শকরাই তাকে ভালোবেসেছে এক সমান মুগ্ধতায়। সিনেমা ছাড়াও জয়ার পোশাক, সাজ ও স্টাইল সেন্স সবসময়ই ফ্যাশন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জয়া আহসান। সাবেক স্বামী ফয়সাল আহসানকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“আমার জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ফয়সাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সে আমাকে শিখিয়েছে মানুষকে সম্মান করতে, বিশেষ করে যারা জীবনে কোনো না কোনোভাবে অবদান রাখে। সম্পর্কের সমাপ্তি মানেই যে ঘৃণা, তা আমি মানি না। আমরা দুজনই পরিণত মানুষ হিসেবে একে অপরকে শ্রদ্ধা করি।”
অনেকেই প্রশ্ন করেন, বিচ্ছেদের পরও কেন নিজের নামের সঙ্গে ‘আহসান’ ব্যবহার করছেন। তার উত্তর দিয়েছেন নিজেই—
“জয়া আহসান এখন আর শুধু একটা নাম নয়—এটা একটা ব্র্যান্ড। আমি লোক দেখানো পরিবর্তনে বিশ্বাসী নই। জীবনের কোনো অধ্যায় শেষ মানেই নিজের পরিচয় বদলে ফেলা নয়।”
জয়ার ভাষায়,
“আমি নাটকীয়তা পছন্দ করি না। আমি যা, সেটা নিয়েই গর্বিত।”
ফ্যাশন জগতে জয়ার উপস্থিতি আলাদা রকমের। তার পোশাক বেছে নেওয়া, কালার কম্বিনেশন থেকে শুরু করে মেকআপ—সবকিছুতেই থাকে নিজের স্বাক্ষর। দেশীয় ডিজাইনারদের পোশাক তিনি প্রায়ই আন্তর্জাতিক আয়োজনে পরিধান করেন, যা বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্যও অনুপ্রেরণা।
জয়ার মতে,
“ফ্যাশন মানে নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাসকে প্রকাশ করা। আমি যেটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, সেটাই আমার স্টাইল।”
বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনেও সমান সুনাম কুড়িয়েছেন জয়া আহসান। একের পর এক মানসম্পন্ন সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
তার সাম্প্রতিক কাজগুলোর মধ্যে আছে ‘আর্কিটেক্ট’, ‘কালপুরুষ’ ও ‘অর্ধাঙ্গিনী’, যেগুলো সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
