ভুয়া ডিগ্রি অভিযোগে ডা. জাহাঙ্গীরকে বিএমডিসির নোটিশ

বাংলাদেশ

রাজধানীর ব্লক–সি আফতাবনগরে অবস্থিত চেম্বার থেকে বইছে নানা প্রশ্নের হাওয়া — তিনি কি বৈধভাবে ‘এফসিপিএস (চূড়ান্ত)’ ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসা চালাচ্ছেন? এই অভিযোগের পরেই Bangladesh Medical and Dental Council (বিএমডিসি) তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, মেডিকেল কাউন্সিলের অনুমোদন ব্যতিরেকে বা পূর্ণ ডিগ্রি শেষ করার আগেই কোনো পদবী বা ডিগ্রি ব্যবহার করা হলে তা আইনত গোপনীয়তা ভঙ্গ করে দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন-২০১০ (৬১ নম্বর আইন) এর ১৩ ও ২৯ ধারা অনুযায়ী, স্বীকৃত নয় এমন ডিগ্রি বা পদবী ব্যবহার করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা, বা উভয়ই হতে পারে।

বিএমডিসি সূত্র বলছে, মামলার শুরু হয়েছে তখন, যখন Dr. Jahangir Kabir নামের এই চিকিৎসক ‘এফসিপিএস (চূড়ান্ত)’ উল্লেখ করে চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন — কিন্তু যাচাই করা হলে দেখা গেছে, তিনি এখনও ওই চূড়ান্ত পরীক্ষাটি সম্পন্ন করেননি। তৎপর দায়িত্বে থাকা কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার Dr. Md. Liakat Hossain স্বাক্ষরিত নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, এই অভিযোগের বিষয়ে Bangladesh College of Physicians and Surgeons (বিসিপিএস)-এর সচিব অধ্যাপক Abul Bashar M. Jamal কাউন্সিলে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে, এবং চিঠির ফটোকপিও নোটিশের সংযুক্তি হিসেবে রয়েছে।

এই ইস্যুতে রয়েছে দু’দিকের মূল্যায়ন। একদিকে রোগীর স্বার্থ রক্ষা এবং চিকিৎসাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। অন্য দিকে, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে প্রতিহিংসামূলক কোনো বিচারবহির্ভূত আচরণ না করা হয় কিনা—সেটাও গুরুত্ব রাখে। এই কারণেই, নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ডিগ্রির বিষয়-প্রসঙ্গে চিকিৎসক থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

বর্তমানে, এই নোটিশের পর ওই চিকিৎসক কত দ্রুত ও কীভাবে জবাব দেবেন—তাই ধরা যাক পরবর্তী দিকে। এবং এটি চিকিৎসাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে কি না—সেটাও দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *