২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণআন্দোলন ছিল দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার এক অবশ্যম্ভাবী ফল — এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
রবিবার ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন, দমননীতি এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। মানুষ তখন পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নেমে আসা ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পায়নি।”
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ অনুষ্ঠিত এ শুনানিতে তাজুল ইসলাম আরও বলেন, “পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস, গুম-খুনের সংস্কৃতি— সবকিছু মিলিয়ে সরকার জনগণকে এক ভয়াবহ আতঙ্কে রেখেছিল। গণ-অভ্যুত্থান সেই ভয় ভাঙার আন্দোলন ছিল।”
তিনি জানান, মামলার সাক্ষ্যপর্বে ৫৪ জন সাক্ষী নিজেদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন। এদের মধ্যে গণআন্দোলনের শহীদ পরিবার, আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এবং তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর রয়েছেন।
মামলায় চিফ প্রসিকিউটর ছাড়াও প্রসিকিউশন পক্ষে অংশ নেন মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম। অপরদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্কে অংশ নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, যুক্তিতর্ক শেষ হলেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে যাবে।
গত বছরের জুলাই-আগস্টের সেই আন্দোলনের সময় সারা দেশে শতাধিক বিক্ষোভ ও সহিংস ঘটনার অভিযোগ উঠে আসে। স্বাধীন তদন্তে এসব ঘটনায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করছে প্রসিকিউশন।
সূত্র: আদালত প্রতিবেদক
