আফটারশক নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই, স্বস্তির বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

বাংলাদেশ

শুক্রবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আপাতত কোনো আফটারশকের আশঙ্কা নেই এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সংঘটিত ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭, যা মাঝারি ধরণের কম্পন হিসেবে বিবেচিত। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকা। যদিও কম্পনের তীব্রতা অনেকাংশেই অনুভূত হয়েছে, তবে এর পর বড় ধরনের কোনো অনুসঙ্গ কম্পনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, সাধারণভাবে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের পর ছোটখাটো আফটারশক দেখা দিতে পারে, কিন্তু এই ঘটনার ক্ষেত্রে তেমন ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “কম্পন শক্তিশালী মনে হলেও ভূত্বকের গঠনগত কারণে এটি বড় ধরনের ক্ষতিকর ধারায় রূপ নেয়নি।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে আফটারশক সবসময় বিপজ্জনক হয় না এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা স্বল্পমাত্রার ও তাৎক্ষণিক হয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে চলতি বছর মার্চ মাসে ঢাকায় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেসময়ও কোনো বড় ধরনের আফটারশক বা দীর্ঘস্থায়ী ঝুঁকি তৈরি হয়নি। এছাড়া মে মাসে ভারতের মণিপুর অঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে পৌঁছালেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শুক্রবারের ভূমিকম্পের প্রভাব প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের কিছু এলাকাতেও অনুভূত হয়। ভারতের কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে কম্পনের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানেও একই দিনে ভোরে আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল গভীর ভূস্তরে।

জনসাধারণের জন্য নির্দেশনা

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে। ভবনে ফাটল বা কাঠামোগত ক্ষতি দেখা দিলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *