শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা-নরসিংদী-নারায়ণগঞ্জ, প্রাণ গেল ৬ জনের, আহত শতাধিক

বাংলাদেশ

ডেইলি নবসংবাদ ডেস্কঃ 

ভয়াবহ ঝাঁকুনির এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দুই শিশুসহ মোট ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থা।

আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে নরসিংদীর মাধবদী এলাকা। কম্পনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ছাড়াও ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে।

ঢাকায় দেয়াল ধসে তিনজনের মৃত্যু

রাজধানীর আরমানিটোলা এলাকার একটি বহুতল ভবনের পাশের কার্নিশ ও দেয়াল ভেঙে নিচে পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। ওই সময় ভবনের নিচে একটি মাংসের দোকানে ক্রেতা ও পথচারীরা অবস্থান করছিলেন। ভাঙা ইট-পলেস্তারা তাদের ওপর পড়ে বহু মানুষ আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

বংশাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

নরসিংদীতে আতঙ্কে ছুটতে গিয়ে প্রাণহানি

নরসিংদী সদর উপজেলায় ভূমিকম্পের সময় ভবন থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে দুইজন মারা যান। নিহতদের একজন ১০ বছর বয়সী শিশু ওমর এবং অপরজন ৭৫ বছর বয়সী কাজেম আলী ভূঁইয়া। এছাড়া সেখানে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

চিনিশপুর ইউনিয়নের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে মালামাল পড়ে আরও কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে শিশুর করুণ মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ভূমিকম্পের তীব্রতায় একটি টিনশেড ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে এক বছরের শিশু ফাতেমা নিহত হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা ও প্রতিবেশীসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। রূপগঞ্জ থানার পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সারাদেশে আতঙ্ক, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলমান

ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। অনেক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু এলাকায় ছোটখাটো ধসের খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় এবং এটি ছিল মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার। পরবর্তী আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।

নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা

ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতিতে জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রবেশ না করার এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ভবনের ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *