শততম টেস্টে ইতিহাস গড়ে অনন্য উচ্চতায় মুশফিক

খেলা
416

নিজস্ব প্রতিবেদক | 

মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম যেন বুধবার সকাল থেকেই অন্যরকম এক আবেগে মোড়া। শততম টেস্ট খেলতে নামা মুশফিকুর রহিমের দিকে নিবদ্ধ ছিল পুরো ক্রিকেটাঙ্গনের দৃষ্টি। আর প্রত্যাশা পূরণ করেই নিজের স্মরণীয় এই ম্যাচে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়ে রেকর্ডের পাতায় আরও একবার স্বর্ণাক্ষরে নাম লেখালেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাত্র এক রান দূরে থাকা অবস্থায় ব্যাট হাতে নামেন মুশফিক। দিনের শুরুতে আইরিশ বোলারদের সতর্ক বোলিং সামলেও ধৈর্য আর অভিজ্ঞতায় নিজের শতক পূর্ণ করেন তিনি। লেগ সাইডে আলতো টোকায় এক রান নিয়ে পূরণ হয় ক্যারিয়ারের ১৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং শততম টেস্টে শতরানের বিরল কীর্তি। ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র ১১ জন ব্যাটসম্যান এই অনন্য অর্জনের মালিক হয়েছেন, যার মধ্যে এখন বাংলাদেশের নামও স্থায়ীভাবে জ্বলজ্বল করছে।

গ্যালারিতে তখন উল্লাসের ঢেউ। ‘মুশফিক, মুশফিক’ স্লোগানে মুখর শেরেবাংলা। পরিচিত ভঙ্গিতে ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকদের অভিবাদন জানান ‘মি. ডিপেন্ডেবল’। এই ইনিংসে তিনি ২১৪ বল মোকাবেলা করে করেন ১০৬ রান, যেখানে ছিল নিখুঁত টাইমিং ও পরিণত ব্যাটিংয়ের দারুণ প্রদর্শনী।

এর আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছিলেন মুশফিক। আইসিসির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় প্রথম দিনের খেলা থামাতে হয়েছিল আম্পায়ারদের। ফলে শতকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত। তবে সেই অপেক্ষা যে কতটা রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে, সেটাই এই ইনিংস প্রমাণ করে দিল।

শততম টেস্ট উপলক্ষে বিসিবির পক্ষ থেকে ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে মুশফিককে প্রদান করা হয় বিশেষ টেস্ট ক্যাপ, সম্মাননা স্মারক ও স্বাক্ষরিত জার্সি। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি মুহূর্তটিকে করে তোলে আরও আবেগঘন।

পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে ইংল্যান্ডের কলিন কাউড্রে প্রথম শততম টেস্টে সেঞ্চুরির নজির স্থাপন করেন। সেই তালিকায় রয়েছেন রিকি পন্টিং, জো রুট, ডেভিড ওয়ার্নারসহ বিশ্ব ক্রিকেটের বহু কিংবদন্তি। এবার সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম সংযুক্ত করলেন মুশফিকুর রহিম।

বাংলাদেশের ইনিংসে এই সেঞ্চুরির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ইনিংসে দলের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৯২। মুমিনুল হক ও লিটন দাসের সঙ্গে কার্যকর জুটি গড়ে ইনিংসকে দৃঢ় ভিত্তি দেন তিনি।

শততম টেস্টে এমন পারফরম্যান্স শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরও এক গৌরবময় অধ্যায়। ভবিষ্যতের প্রজন্মের কাছে যা হয়ে থাকবে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *