অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর Kamrangirchar এলাকায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
রোববার ঢাকার Women and Children Repression Prevention Tribunal-4-এর বিচারক মুন্সী মশিউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম।
রায়ে আদালত নির্দেশ দেন, আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে তা ভুক্তভোগীর ছেলেকে প্রদান করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২৫ জুন রেহানা বেগমের সঙ্গে সায়েদ আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে রেহানাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেহানার বাড়িতে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তার মা। সে সময় স্বামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। পরে দ্রুত আজিমপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে হত্যার প্রমাণ
ঘটনার পর ২০১২ সালের ১২ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মা রেজিয়া বেগম মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রেহানাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পরবর্তীতে Criminal Investigation Department Bangladesh-এর তদন্ত কর্মকর্তা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনালে মোট ১১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
দীর্ঘ বিচার শেষে রায়
প্রায় ১৪ বছর পর মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হলো। আদালতের এ রায়ে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
