বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে সমর্থকদের মধ্যে। বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একের পর এক ম্যাচ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করছে নিগার সুলতানার দল। সোমবার রাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র কয়েক ধাপ দূরে থেকেও জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল ৪৮ ওভার পর্যন্ত ভালোই লড়াই করছিল। তখন পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৯১ রান—মাত্র ১২ বলে দরকার ছিল ১২ রান, হাতে ৬ উইকেট! কিন্তু হঠাৎ যেন সবকিছু ওলট-পালট। এক রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটি হেরে বসে লাল-সবুজের মেয়েরা।
এই পরাজয়ের ফলে নারী বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি সোজাসাপ্টা স্বীকার করলেন, এটা দুর্ভাগ্য নয় এটা সম্পূর্ণ তাদের ভুলের ফল।
তিনি বলেন,
“একবার হলে হয়তো বলা যেত ভাগ্য খারাপ ছিল, কিন্তু তৃতীয়বার একইভাবে হার মানে আমাদেরই পরিকল্পনায় ঘাটতি আছে। কিছু ক্যালকুলেশন মিস হয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিকভাবে খেলতে পারিনি।”
বাংলাদেশ অধিনায়ক আরও জানান, শেষ মুহূর্তে দলের খেলোয়াড়রা স্নায়ুর চাপে ভেঙে পড়েছিলেন।
“এই ধরনের রান তাড়ায় আমরা টিভিতে দেখি, বড় দলগুলো নিজেদের শান্ত রাখে। কিন্তু আমরা পারিনি। অভিজ্ঞতার ঘাটতিও এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে,” — বলেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়েও কথা বলেন নিগার সুলতানা। তার মতে,
“প্রতিযোগিতামূলক ঘরোয়া ক্রিকেটই আন্তর্জাতিক সাফল্যের চাবিকাঠি। দেশে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ হলে খেলোয়াড়দের মান বাড়বে। তাহলে এমন অবস্থায় হারার হারও কমে যাবে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“দ্বিপক্ষীয় সিরিজে একই দলের বিপক্ষে খেললে এমন চাপের পরিস্থিতি খুব একটা আসে না। কিন্তু আইসিসি ইভেন্টে এসে আমরা সেই অভিজ্ঞতার ঘাটতি টের পাই।”
এই আসরে টানা পাঁচ ম্যাচে হারলেও, বাংলাদেশের হাতে এখনও একটি সুযোগ বাকি আছে। ২৬ অক্টোবর স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে অন্তত সান্ত্বনার জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে নিগার সুলতানার দল।
