সবুজ হত্যা মামলায় নাসা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল মজুমদার তিন দিনের রিমান্ডে

অপরাধ ও আদালত

জুলাইয়ের আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা রাজধানীর বহুল আলোচিত সবুজ হত্যা মামলায় নাসা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার আদালত।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। শুনানির আগে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।

১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, আদালতের সিদ্ধান্ত ৩ দিন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রেজাউল করিম নজরুল মজুমদারের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়—
ঘটনাস্থল পরিদর্শন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং গোপন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিদের অর্থায়ন ও উসকানি দেওয়ার পেছনে নজরুল মজুমদারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন,
“রাজনৈতিক সহিংসতার নেপথ্যে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি সহযোগিতা করেছে, তাদের একজন নজরুল ইসলাম মজুমদার। সত্য উদঘাটনে তাঁকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।”

জামিন আবেদন ও প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি

নজরুলের আইনজীবী সাদেকুর রহমান তমাল রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি জানান—

  • এজাহারে তাঁর নাম নেই

  • সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

  • ঘটনাকালে তিনি দেশে ছিলেন না

  • অভিযোগ হিসেবে অর্থ সহায়তার বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই

তার দাবি— অসুস্থ ও প্রবীণ এই আসামিকে প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেত।

আদালতে নিজেই কথা বলেন নজরুল

আদালতের অনুমতি পেয়ে নজরুল মজুমদার বলেন—
“আমি হার্টের রোগী। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। রিমান্ড হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে গত ১৫ মাসে একাধিক মামলায় রিমান্ড হয়েছে এবং দুদকের মামলাগুলোতে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর শাহজাদপুর বাটার গলি এলাকায় অংশ নেন কামাল হোসেন ওরফে সবুজ (৪০)। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

ঘটনার প্রায় এক বছর পর, এই বছরের ৭ জুলাই, ১০০–১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে গুলশান থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *