বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুরু হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে চারটি পুনর্বিবেচনা আবেদনের শুনানি।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এর নেতৃত্বে সাত বিচারপতির একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে শুনানি কার্যক্রম শুরু করেন। আবেদনকারীদের পক্ষে বক্তব্য রাখছেন ড. শরীফ ভূঁইয়া, আর রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন এবং মামলাটিকে পুনরায় শুনানির জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।
পটভূমি
১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ওই সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, যার পরই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা বাতিল হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর থেকে টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল পরিবর্তিত হয় এবং সেই প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
কারা আবেদন করেছেন
প্রথম পুনর্বিবেচনা আবেদনটি করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক। পরবর্তীতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও একাধিক ব্যক্তি আলাদাভাবে একই বিষয়ে আবেদন জানান।
ফলে মোট চারটি রিভিউ আবেদন একসাথে শুনানি শুরু হয়েছে আজ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
আগের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত কেবল পুরোনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায় না, বরং একটি টেকসই ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা গঠনের পথ খুঁজছে, যাতে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত না হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিগত দেড় দশকে জনগণ বারবার অবিচারের শিকার হয়েছে—গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের ভয়াবহতা দেশকে অস্থির করেছে। জনগণের সেই ক্ষোভ থেকেই এসেছে পরিবর্তনের দাবি।
ভবিষ্যৎ গুরুত্ব
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুনানির রায় বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।
রায়টি শুধু তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বৈধতা নয়, বরং নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো ও জনগণের আস্থার প্রশ্নকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।
