১৩ বছরের মানবিক যাত্রা সম্পন্ন করে নতুন অধ্যায়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

অর্থনীতি ই-কমার্স ও উদ্যোক্তা
342

নিউজ ডেস্ক | অনলাইন রিপোর্ট | প্রকাশ: রোববার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | সকাল ১১:৩৭

বাংলাদেশের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সংগঠন মাস্তুল ফাউন্ডেশন আজ তাদের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।
২০১২ সালে তরুণ সমাজসেবক কাজী রিয়াজ রহমানের উদ্যোগে সূচনা হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি গত এক যুগে দেশের অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে থেকে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

গাজায় বাংলাদেশের মুখ মাস্তুল

দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মানবিক কর্মকাণ্ডে প্রশংসা কুড়িয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।
২০২৪ সাল থেকে সংগঠনটি সরাসরি ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য, দুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী।
মিশরের কায়রোতে স্থাপিত তাদের শাখা অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় দূতাবাসের সহযোগিতায় মসজিদ, এতিমখানা ও হাসপাতাল পুনর্নির্মাণেও কাজ করছে তারা।

️ কাজী রিয়াজ রহমানের মানবিক অঙ্গীকার

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন,

“আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ কৃপায় আজ আমরা ১৩টি বছর পার করেছি।
শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল একটাই — মানুষের সেবা করা।
প্রতিটি হাসি, প্রতিটি সহায়তা, প্রতিটি প্রকল্প আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই নিবেদিত।”

তিনি আরও বলেন,

“আমরা বিশ্বাস করি মানবসেবাই ইবাদত। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা দেশ — কোনো কিছুই মানবতার বাঁধা হতে পারে না।
মানুষের পাশে থাকা মানেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।”

১৩ বছরের সেবাযাত্রায় মাস্তুল

গত এক যুগে মাস্তুল ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেছে নানামুখী কার্যক্রম:

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা: সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা

  • ত্রাণ কার্যক্রম: ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি ত্রাণ বিতরণ

  • করোনা দাফন সেবা: মহামারির সময়ে অসহায় পরিবারকে বিনামূল্যে দাফন সহায়তা

  • আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা: ২০২৩ সালের তুরস্ক ভূমিকম্পে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান

  • “যাকাত স্বাবলম্বী” প্রকল্প: স্বল্প আয়ের মানুষকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা

বর্তমানে সংগঠনটি রাজধানীর হাজারীবাগে নিজস্ব মাদরাসা, সেল্টারহোম, এতিমখানা ও মেহমানখানা পরিচালনা করছে। প্রতিদিন বিনামূল্যে অসহায়দের জন্য রান্না করা খাবার বিতরণ করছে তাদের টিম।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

আগামী দিনগুলোতে মাস্তুল ফাউন্ডেশন আরও বড় পরিসরে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।
প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো:

  1. দেশের প্রতিটি দরিদ্র শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

  2. স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায়।

  3. কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা।

  4. দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী করা।

  5. আন্তর্জাতিক মানবিক মিশন সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈশ্বিক মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

দান ও যাকাতে কর রেয়াত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুসারে, মাস্তুল ফাউন্ডেশনে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়কর রেয়াতযোগ্য।
অর্থাৎ, এই প্রতিষ্ঠানে দান করলে তা দাতার কর ছাড় হিসেবে গণ্য হবে।

কৃতজ্ঞতা ও আহ্বান

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের ও প্রবাসের সকল দাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
সংগঠনটির আহ্বান —

“মানবতার এই যাত্রায় আমাদের পাশে থাকুন,
আপনার সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *