রাজধানীর মালিবাগের ফরচুন শপিং মলে সংঘটিত বহুল আলোচিত ৫০০ ভরি স্বর্ণ চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘ ৭২ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে চুরি চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও গলানো স্বর্ণের অংশ।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো — শাহিন মাতব্বর (৪৬), নুরুল ইসলাম (৩৩), উত্তম চন্দ্র সূর (৪৯) ও অনিতা রায় (৩১)। চক্রটি গত তিন মাস ধরে দোকানটি পর্যবেক্ষণ করছিল। ঘটনার আগের রাতে তারা ভবনের বাথরুমের জানালা দিয়ে দড়ি বেঁধে প্রবেশের পথ তৈরি করে। পরে রাতে মার্কেটে ঢুকে গ্রিল কেটে দোকান থেকে স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেয়।
ডিবির একাধিক টিম চট্টগ্রাম, বরিশাল, ফরিদপুর ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে। প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে শাহিন মাতব্বরকে গ্রেফতার করা হয়, এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্যদের ধরা হয়।
অতিরিক্ত কমিশনার জানান, এই চক্র পূর্বেও স্বর্ণ চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। ২০২১ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী মার্কেটে একই কায়দায় স্বর্ণ চুরির ঘটনায় তারা গ্রেফতার হয়েছিল এবং পরে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, “তদন্তে জানা গেছে—গ্রেফতারদের একজনের স্ত্রীও পরিকল্পনায় সহযোগিতা করেছেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯০ ভরি স্বর্ণ, বাকিটা উদ্ধারে অভিযান চলছে। চুরি যাওয়া স্বর্ণের মালিক দাবি করেছেন মোট ৫০০ ভরি স্বর্ণ হারিয়েছেন।”
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা স্বর্ণ বিক্রি করেনি; বরং কিছু অংশ গলিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি পলাতক রয়েছে, যাকে গ্রেফতার করতে পারলে অবশিষ্ট স্বর্ণের অবস্থান জানা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর রাতে মালিবাগের ফরচুন শপিং মলে অবস্থিত শম্পা জুয়েলার্স থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি বোরকা পরে দোকানের তালা ভেঙে প্রবেশ করে স্বর্ণ চুরি করছে।
