✍️ আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Daily Nobo Sangbad
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে আন্তর্জাতিক মহল দেখছে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ বা ‘ট্রেড ক্যালকুলাস’ হিসেবে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে এই বৈঠকের মাধ্যমে। যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাণিজ্য শুল্ক, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও বিরল খনিজের সরবরাহ নিরাপত্তা।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এবার তাদের লক্ষ্য উত্তেজনা সৃষ্টি নয়, বরং বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল করা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন,
“আমরা এমন একটি চুক্তি চাই, যা দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করবে। শুল্ক হ্রাস ও বিনিয়োগ সহজীকরণই এখন আমাদের অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আলোচক দল টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম, রেয়ার আর্থ খনিজ সরবরাহ ও প্রযুক্তি খাতের প্রবেশাধিকার বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স–এর তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ একটি প্রাথমিক ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির খসড়ায় পৌঁছেছে। এতে তিনটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—
-
বাণিজ্য শুল্ক কমানো ও নতুন বিনিয়োগ সুবিধা তৈরি
-
চীনের রেয়ার আর্থ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল
-
মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির জন্য বাজার উন্মুক্তকরণ
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো — মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করছে, যাতে সরবরাহ চেইনে চীননির্ভরতা কমানো যায়।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করছে যে, চীন অন্যায্য বাণিজ্যনীতি ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করছে। অপরদিকে চীন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত শুল্কনীতি’ বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে।
এখন ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, এই দ্বন্দ্বকে সংঘাত নয়, কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে। সিবিএস নিউজ মন্তব্য করেছে,
“ট্রাম্প এবার কনফ্রন্টেশন নয়, ক্যালকুলেটেড এনগেজমেন্টে যাচ্ছেন।”
সম্ভাব্য চুক্তির ফলে চীন মার্কিন কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সয়াবিন ও কর্ন আমদানি বাড়াতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা লাভবান হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজের বিকল্প উৎস খুঁজে সরবরাহ চেইনে বৈচিত্র্য আনতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বাণিজ্য নয়, বরং প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের কৌশলগত অংশ হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক যদি স্থিতিশীল পথে এগোয়, তাহলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য রপ্তানি, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে বাড়তে পারে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে।
ট্রাম্প–শি বৈঠক কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কৌশল — তিনটি স্তরেই এই বৈঠক নির্ধারণ করবে আগামী দশকের বিশ্ব বাণিজ্যের দিকনির্দেশনা।
