ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার গভীর রাতে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর তিনি সেনাবাহিনীকে এই নির্দেশ দেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। ইসরাইল বলছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের জবাবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী গাজা থেকে ১৩ ইসরাইলি নাগরিকের মৃতদেহ ফেরত আসার কথা ছিল। তবে হামাস এখনো সেগুলো পুরোপুরি হস্তান্তর করেনি। এ বিষয়টিকে তারা স্পষ্ট চুক্তিভঙ্গ হিসেবে দেখছে। যদিও হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থাকা মরদেহগুলো উদ্ধার করতে বিশেষজ্ঞ ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, যা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায়নি। তাই সব মৃতদেহ উদ্ধার বিলম্বিত হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন পরই ইসরাইল সীমিত আকারে গাজায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এরপর প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চলছে। এতে নতুন করে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৩ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠছে এবং চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সহিংসতা বন্ধে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এই সংকটের মধ্যে অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অবিলম্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
