মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী গাজা যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তিনি শিগগিরই ইসরায়েলে পৌঁছাবেন— গাজা থেকে জিম্মি মুক্তির প্রক্রিয়া তদারকি করতে।
শনিবার রাতে প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,
“যুদ্ধবিরতি টিকবে বলে আমি আশাবাদী। গাজায় শান্তি ফিরবে এবং সেখানে একটি নতুন শান্তি বোর্ড গঠিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো জরুরি।”
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের মধ্যে হামাস জীবিত ও মৃত ইসরায়েলি জিম্মিদের ফেরত দেবে। প্রথম পর্যায়ে ২০ জন জীবিত ও ২৮ জন মৃত জিম্মি ফেরত আসবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল মুক্তি দেবে ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি এবং গাজার অভ্যন্তরে ১,৭০০ জন আটক ব্যক্তিকে।
এছাড়া মানবিক সহায়তার মাত্রা বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ইসরায়েলি এক মুখপাত্র জানান, জীবিত জিম্মিদের নিরাপদে ফেরত পাওয়ার পরপরই বন্দিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ট্রাম্প বলেন, “এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সবাই শান্তি চায়, সবাই এ মুহূর্তে খুশি।”
তেল আবিবে শনিবার সন্ধ্যায় কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। পাল্টা অভিযানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় প্রাণ হারান ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে শিশু রয়েছে ১৮ হাজারের বেশি।
ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়নের পর তিনি সোমবার ইসরায়েলের নেসেটে (পার্লামেন্ট) ভাষণ দেবেন। এরপর তিনি মিশরের শার্ম আল শেখে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দেবেন।
সূত্র: বিবিসি
