দেশে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে জনপ্রশাসনে কাঠামোগত পরিবর্তন ও পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের রাজনৈতিক সময়কার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণভিত্তিক প্রশাসনিক ধারা ভেঙে নতুন সমন্বয় কাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে—তবে এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের চেইন অব কমান্ডে দুর্বলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন নিয়োগ ও বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনাও বাড়ছে।
অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পদায়নে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এদের অনেকে অতীতে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ ও রদবদল হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের ভেতর থেকেই।
অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন শীর্ষ প্রশাসক জানিয়েছেন, দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে চলমান এই রদবদল ও প্রভাব খাটানোর প্রবণতা নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনের ঘোষিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যের পর একটি প্রশাসনকে পুনর্গঠনের জন্য সময়, স্বচ্ছ পরিকল্পনা এবং স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে জনপ্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের ওপর মানুষের নজর আরও বাড়বে, তাই দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও আরও সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
