নানা তর্ক-বিতর্ক ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত প্রতীক তালিকায় যুক্ত হলো নতুন প্রতীক ‘শাপলা কলি’। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) কমিশন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, সংশোধিত বিধিমালার আওতায় নতুন প্রতীকটি এখন থেকে বরাদ্দযোগ্য।
ইসির প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধিত ধারায় নতুন প্রতীক যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাতেই নতুন করে ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হয়েছে, যা প্রার্থীদের জন্য প্রাপ্যতা সাপেক্ষে বরাদ্দ করা হবে।
এই প্রতীককে ঘিরে তীব্র আলোচনার সূত্রপাত ঘটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দাবিকে কেন্দ্র করে। গত জুনে নিবন্ধনের আবেদন করার সময় দলটি শাপলা, কলম কিংবা মোবাইল—এই তিনটি প্রতীকের আবেদন করে। পরে তারা শাপলাকেই একমাত্র দাবি হিসেবে সামনে আনে। তবে বিধিমালায় শাপলা প্রতীক না থাকায় ইসি প্রথমে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এনসিপি দাবি করে—আইনি বাধা না থাকায় তাদের পছন্দের প্রতীক দেওয়া উচিত। কয়েক দফা আলোচনার পর কমিশন সিদ্ধান্ত বদলে ‘শাপলা কলি’ নামে প্রতীকটি তালিকায় যুক্ত করে। তবে দলটির দাবি, তাদের চাওয়া প্রতীক থেকে সামান্য পরিবর্তন এনে প্রতীক দেওয়ার চেষ্টা হতাশাজনক।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই শাপলার বদলে ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করা দুঃখজনক। তিনি জানান, দলটি বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আরও আলোচনা করবে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো ও দল গঠনের ঘোষণায় সামনে আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও তাদের সহযোগী প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটি। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এবং তার পর থেকেই প্রতীক হিসেবে শাপলার দাবি ধরে রাখে।
সোমবার ইসির সিনিয়র সচিব জানান, শাপলা বিধিমালায় না থাকায় তা দেওয়া যাচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিন দিন পর নতুন প্রজ্ঞাপন আসে। সর্বশেষ সংরক্ষিত প্রতীক তালিকায় শাপলা না থাকলেও এখন থেকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হবে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক শক্তির চাপ ও জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশোধনী অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে করলে আরও নতুন প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
