সরকারি আশ্বাসের ভিত্তিতে অবশেষে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। টানা দুই দিন কর্মবিরতির পর আগামীকাল মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরছেন তারা।
সোমবার রাতে রাজধানীতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠকের পর শিক্ষক নেতারা জানান—বেতন গ্রেড সংশ্লিষ্ট দাবির অগ্রগতিতে সরকার ইতিবাচক নিশ্চয়তা দিয়েছে। তাই তারা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করে নিয়মিত পাঠদানে ফিরবেন।
তবে বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থানরত একদল শিক্ষক নেতাদের বিরুদ্ধে ‘সমঝোতা করে ফেলা’র অভিযোগ তোলেন এবং বিক্ষোভ করেন। তারা জানান, দশম গ্রেডের সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন ছাড়া আন্দোলন শেষ হবে না।
বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হলো?
সোমবার বিকেল থেকে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠক শেষে জানানো হয়—
-
সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১-এ উন্নীত করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে
-
১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে
-
শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ করছে
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বেতন কাঠামো সংক্রান্ত সুপারিশ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহীদ মিনারে উত্তেজনা
আন্দোলন স্থগিতের খবর পৌঁছানোর পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ মিনারে উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বিভিন্ন স্থানের শিক্ষকরা স্লোগান দেন—
“দশম গ্রেড ছাড়া ঘরে ফেরা নয়।”
এসময় প্রধান আন্দোলনকারী কয়েকজন নেতা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
দুই দিন পাঠদান বন্ধ ছিল
রবিবার মধ্যরাত থেকে দেশের প্রায় সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মবিরতিতে থাকেন।
ফলে সারা দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়।
ঢাকায় সারা দেশ থেকে আসা শিক্ষকরা শহীদ মিনারে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষক বলেন,
“আমরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেও পাঠদান করিনি। দাবি আদায়ের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।”
আন্দোলনের সূচনা
শিক্ষকদের তিন দফা দাবি—
1️⃣ সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড
2️⃣ ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ
3️⃣ শতভাগ পদোন্নতি বাস্তবায়ন
গত শনিবার সকাল থেকে শহীদ মিনারে গণঅবস্থান শুরু হয়। বিকেলে শাহবাগে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে বহু শিক্ষক আহত হন এবং কয়েকজন গ্রেপ্তার হন।
আগামী পদক্ষেপ
দাবি বাস্তবায়নের সরকারি ঘোষণা না এলেও শিক্ষক নেতারা আশা করছেন, আলোচনার ধারাবাহিকতায় শিগগির সিদ্ধান্ত হবে।
অন্যদিকে, ভিন্নমত শিক্ষকরা জানিয়েছেন—
“এটি সাময়িক বিরতি, দাবির সমাধান না হলে আবার মাঠে নামব।”
