দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এক বছরের জন্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই দেশের মধ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ ও বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত অ্যাপেক সম্মেলনের sidelines এ প্রায় দেড় ঘণ্টার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সমঝোতা হয়, যা ২০১৯ সালের পর দুদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
সমঝোতা অনুযায়ী, চীন বিরল খনিজ রপ্তানির ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ স্থগিত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেবে। একই সঙ্গে ফেন্টানিল সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠককে অত্যন্ত সফল বলে মন্তব্য করেন এবং জানান যে চীন অতিরিক্ত মার্কিন কৃষিপণ্য ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চীনও জানায়, দুই দেশ দ্রুত নীতি-কার্যক্রম চূড়ান্ত করবে, যাতে চুক্তির বাস্তব প্রভাব দৃশ্যমান হয়। যদিও বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকছে, তবু এই ‘বিরতি’ ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খুলে দেবে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি প্রকৃত সমাধান নয়, বরং সাময়িক শান্তি। বিরতি শেষে আবারও উত্তেজনা ফিরে আসতে পারে। তাঁরা মনে করেন, দুই পক্ষ এখনো কৌশলগত প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসেনি, শুধু সংঘাতের মাত্রা কমিয়েছে।
এদিকে বৈঠকের পর বিশ্ববাজারের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। এশিয়ার কয়েকটি বাজারে সূচক কিছুটা দুর্বল হলেও, সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল ছিল। অনেক বিনিয়োগকারী এখনো সতর্ক অবস্থানে কারণ বড় কোনো ছাড় বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ঘোষণা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্যযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল প্রযুক্তি শিল্প ও কাঁচামাল বাজারে। বিরল খনিজের সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কা থাকায় শিল্পখাতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। নতুন সমঝোতার ফলে সে উদ্বেগ আপাতত দূর হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তিটি বার্ষিক পর্যালোচনার আওতায় থাকবে বলে উভয় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে সম্পর্ক আবারও কঠিন হয়ে যেতে পারে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তির এই সাময়িক সমঝোতা বাজারে স্থিরতা আনতে সহায়ক হলেও বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা পুরোপুরি থামছে না—বরং এক বছরের শান্তির পর নতুন অধ্যায়ের জন্য অপেক্ষা করছে।
