
শারজায় তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্তভাবে ফিরে এলো বাংলাদেশ দল।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল টাইগাররা। শেষ ম্যাচেও থামানো যায়নি তাদের—৬ উইকেটের দাপুটে জয়ে ৩–০ ব্যবধানে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ শেষ করেছে জাকের আলির নেতৃত্বাধীন দল।
এই জয়ের পেছনে উজ্জ্বল দুই নায়ক—সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ব্যাটে ও বলে দু’জনের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ২০১৮ সালের ধবলধোলাইয়ের সেই পুরনো ক্ষত মুছে নিলো বাংলাদেশ।
আফগানদের ব্যাটিং বিপর্যয়
রবিবার আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৩ রান তুলতে পারে আফগানিস্তান।
সাইফুদ্দিন মাত্র ১৫ রানে নেন ৩টি উইকেট, তানজিম সাকিব ও নাসুম আহমেদ পান ২টি করে উইকেট।
ইনিংসের শুরুতেই বিপদে পড়ে আফগানরা। শরিফুল ইসলামের দারুণ স্পেলে ২০ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর নাসুমের ঘূর্ণিতে গুরবাজ (১২) ফিরে গেলে স্কোরবোর্ডে চাপ আরও বাড়ে।
পাওয়ার প্লের শেষ বলেই উইকেট হারায় ওয়াফিউল্লাহ তারাখিল (১৩)। ৬ ওভার শেষে আফগানিস্তান ৩৯/৩।
মাঝপথে সেদিকুল্লাহ আতাল কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন, কিন্তু সাইফুদ্দিনের নিখুঁত ইয়র্কারে তার ইনিংস শেষ হয় ২৮ রানে।
এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় আফগানরা। শেষ দিকে মুজিবুর রহমান (২৩*) এবং দরবেশ রাসুলির (৩২) ছোট জুটি কিছুটা রক্ষা করে দলকে।
সাইফদের দাপটে সহজ জয়
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পারভেজ ইমন ও তানজিদ তামিম সতর্ক সূচনা করেন। তবে ইমন ১৪ রান করে ফিরলে ২৪ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।
এরপর তানজিদ তামিম (৩৩) ও সাইফ হাসান মিলে ইনিংস মেরামত করেন। দু’জনে মিলে দ্রুত রান তুলে স্কোর নিয়ে যান ৭৯/১ পর্যন্ত।
তামিম আউট হওয়ার পর ইনিংসে কিছুটা চাপ এলেও সাইফ ছিলেন অন্য মেজাজে। আব্দুল্লাহর এক ওভারেই হাঁকালেন ৩ ছক্কা ও ১ চার—একাই নিলেন ২২ রান!
শেষ দিকে রশিদ খান ও মুজিব কিছুটা কিপটে বোলিং করলেও ফল বদলায়নি।
মাত্র ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন সাইফ, যা তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত ২ চার ও ৭ ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
নুরুল হাসান সোহান ছিলেন ৯ বলে ১০ রানে অপরাজিত।
বাংলাদেশ ১৭.৫ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ৬ উইকেট হাতে রেখে।
ঐতিহাসিক সাফল্য
এই জয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে ২০১৮ সালের ধবলধোলাইয়ের প্রতিশোধও মিললো দারুণভাবে।
জাকের আলির নেতৃত্বে গড়া এই তরুণ দল প্রমাণ করলো—বাংলাদেশ এখন শুধু ঘরের মাঠেই নয়, বিদেশেও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে জানে।
