শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতের

বাংলাদেশ রাজনীতি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। বাংলাদেশের করা প্রত্যর্পণ অনুরোধ বর্তমানে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে এবং বিষয়টি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোবে।

ভারতের একাধিক সরকারি সূত্রের বরাতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নয়, আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না, সেটিও যাচাই করা হতে পারে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে প্রয়োজনীয় আইনি নথিসহ প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এদিকে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তার এমন বক্তব্যের পরও ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ বিষয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং বিষয়টি প্রচলিত আইনি কাঠামোর মধ্যেই বিবেচনা করা হবে।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ঢাকা ও নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে আইনি ও বিচারিক বিষয়গুলো বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে যা আছে

বাংলাদেশ ও ভারত ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরে ২০১৬ সালে চুক্তিতে কিছু সংশোধন আনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে দুই দেশ একে অপরের কাছে অভিযুক্ত, দণ্ডিত বা আইনগতভাবে ফেরত চাওয়া ব্যক্তিকে হস্তান্তরের অনুরোধ করতে পারে।

তবে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, নরহত্যা, অপহরণ, সন্ত্রাসবাদসহ বেশ কিছু গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার কথা চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও এ ধরনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে তদন্ত বা অনুসন্ধানের ব্যবস্থা করতে পারে।

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারত কোন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে, সেটি ভারতের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ভারতের আদালতের অনুমোদন নিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার ভারতের।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি ইতোমধ্যে দণ্ডিত হয়েছেন। তাই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হলেও, শেষ পর্যন্ত প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *