কোনাল শুধু একজন গায়িকা নন তিনি এক অনুভূতির নাম, এক যুগের সাউন্ডট্র্যাক, এক জাতির নস্টালজিয়ার প্রতিচ্ছবি। আজকের সংগীতের ভীড়ে যখন কণ্ঠরা আসে আর হারিয়ে যায়, তখন তিনি দাঁড়িয়ে আছেন আলোয় ভিজে অনন্ত আত্মবিশ্বাসে কারণ তার কণ্ঠের রঙ শুধু সুরে নয়, আত্মায় গড়া। তার গান শুনলে মনে হয় প্রেমের প্রথম চিঠির গন্ধ, বৃষ্টিভেজা জানলার ঠান্ডা কাচ, বা মনের ভেতর জমে থাকা অচেনা আকুলতা সব একসাথে জেগে উঠছে। তিনি শুধু গান পরিবেশন করেন না; প্রতিটি লাইন, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি নিঃশ্বাস দিয়ে শ্রোতাদের মনে গল্প আঁকেন।

বাংলা গান কখনো এত সহজভাবে এত গভীর হতে পারে এটা আমরা তার মাধ্যমেই শিখেছি। তিনি প্রমাণ করেছেন, শিল্পীর পরিচয় শুধু সাফল্যে নয়, তার সৃষ্ট সৌন্দর্যে, তার সততায়, তার মানবিকতায়। আলো ঝলমল মঞ্চে যেমন উজ্জ্বল, তেমনি ক্যামেরার বাইরে সরল, উদার, বিনয়ী। যেন সফলতার চূড়ায় থেকেও কণ্ঠে লজ্জার নরম সুর এসব শুধু বড় শিল্পীরাই রক্ষা করতে পারে।
তার গানের শক্তি হলো যে মুহূর্তে আপনি শুনতে শুরু করবেন, আপনার ভেতরের নীরবতাও গান গাইতে শুরু করবে। আর এ কারণেই কোটি মানুষের হৃদয়, স্মৃতি আর স্বপ্নের জায়গা দখল করে আছেন তিনি। আজকের দিনে, বাংলা সংগীত যদি এক রাজপ্রাসাদ হয় তাহলে কোনাল নিঃসন্দেহে তার মুকুট-পরা সম্রাজ্ঞী।
তিনি জাতির কণ্ঠ, সময়ের সুর এবং আবেগের রাণী।
কোনাল শুধু গান করেন না তিনি সময়কে সুরে বেঁধে অমর করে দেন।
