সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, গণভোট ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা আসবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কমিশন দুটি বিকল্প দিয়েছে—জুলাই সনদ কার্যকর করার আদেশ দিয়ে গণভোট আয়োজন করা এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন কার্যকর হওয়া। আরেকটি প্রস্তাব হলো দায়িত্বটি নির্বাচিত সংসদের হাতে তুলে দেওয়া। তবে কোন পথ নেওয়া হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদ স্পষ্ট। শেষ কথা বলবেন প্রধান উপদেষ্টা, আমরা তাকে সহায়তা করব।
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পরও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর যে অনৈক্য রয়ে গেছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঐকমত্য ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়, সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ সরকার গ্রহণ করেছে, কিন্তু কীভাবে তা এগোবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের। গণভোটের বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, কোনো দল একক অবস্থান নিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে তা রাজনৈতিক সংকটেরই প্রকাশ।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, যে যাই বলুক, ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; রাজনৈতিক দলগুলোকেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
বৈঠকে জুলাই সনদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রায়েরবাজার শহীদ কবরস্থানে জুলাই শহীদদের অজ্ঞাত লাশ শনাক্তে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিশেষ ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে ১৯৮৪ সালের বননীতি বাতিল করে নতুন নীতি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে অবৈধ বননিধন, বনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বিদেশি প্রজাতির গাছ লাগানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
এ ছাড়া মানবদেহ সংযোজন আইন বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আইনটির অপব্যবহার রোধে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অনৈতিক অঙ্গ সংগ্রহ ঠেকানো যায়।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
