টলিউড অভিনেত্রী সোহিনী সরকার—অভিনয় দক্ষতা আর স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্র নির্মাণে ইতোমধ্যেই অসংখ্য দর্শক–সমালোচকের মন জয় করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেবের সঙ্গে ‘রঘু ডাকাত’ ছবিতে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় এই নায়িকা। তবে সফলতা বা গ্ল্যামারের চকচকে আবরণে নিজেকে আড়াল করার পক্ষে নন সোহিনী; বরং নিজেকে দেখেন সাধারণ মানুষের মতোই।
ভারতের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোহিনী বলেন,
“যে ঝলমলে দুনিয়ায় কাজ করি, তা দেখলে সবাই ভাবে সবকিছুই বিলাসিতায় ভরা। বাস্তবে কিন্তু অভিনয় শিল্পীদের জীবনে দুশ্চিন্তা, দায়বদ্ধতা আর চাপ থাকে অন্যদের মতোই।”
‘আমি সাধারণ মানুষই’
সাক্ষাৎকারে যখন তাকে বলা হয়, অনেক সফল তারকা নিজেদের সাধারণ মনে করেন না—সোহিনীর জবাব ছিল সোজাসাপ্টা:
“আমিও বিল দিতে হয়, বাড়ির EMI আছে। মা–বাবার চিকিৎসার খরচ আছে। সাধারণ মানুষের মতোই সব দায়িত্ব সামলাতে হয় আমাকে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“নেই কোটি টাকার বাংলো, নেই আলিশান গাড়ি। যা পাই, সৎ পথে উপার্জন করি, তাতেই শান্তি পাই। ইভেন্টে ফিতা কাটলাম বলে কেউ রাজকীয় হয়ে যায় না।”
‘সাফল্য স্থায়ী নয়’
জীবনের উত্থান–পতন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন,
“অমিতাভ বচ্চনের মতো সুপারস্টারও একসময় দেউলিয়া হয়েছিলেন। তাই খ্যাতি নিয়ে অহঙ্কার করে লাভ নেই। গীতাতেও আছে—সুখ–দুঃখ চক্রাকারে চলতে থাকে। জীবনও এমনই।”
তার মতে, সফলতা যতই আসুক, পা যেন সবসময় মাটিতে থাকে।
নতুন কাজে ব্যস্ততা
শুধু দার্শনিক উপলব্ধিই নয়, নতুন কাজ নিয়েও এখন ব্যস্ত সোহিনী। শিগগিরই তাকে দেখা যাবে পৃথা চক্রবর্তীর ‘ফেরা’ এবং রান্নাবাটি নামের নতুন সিনেমায়।
দর্শক–অনুরাগীদের প্রতি বার্তা দিয়ে সোহিনী বলেন—
“জীবন বড় বাস্তব। তাই পরিশ্রম আর সততার পথ থেকে সরে না যাওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।”
