ডেইলি নব সংবাদ ডেস্ক
দশম গ্রেডসহ তিন দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনে উত্তেজনা
দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ অভিমুখে তাদের পদযাত্রা শুরু হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে থামিয়ে দেয়।
শিক্ষকরা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ: ‘ডিগ্রি বেশি, বেতন কম—এটাই আমাদের বাস্তবতা’
আন্দোলনকারীদের দাবি, একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দেশে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ইতোমধ্যে দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, কিন্তু সহকারী শিক্ষকরা এখনও অবস্থান করছেন ১১তম গ্রেডে।

নড়িয়া উপজেলার এক শিক্ষক বলেন,
“দেশের লাখো মানুষকে প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে আমরা তৈরি করি, অথচ আমাদের বেতন স্কেলে এখনো বৈষম্য রয়ে গেছে।”
শিক্ষক নেতাদের ঘোষণা: দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না পাওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
তাদের দাবি তিনটি—
✅ সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তি
✅ উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণ
✅ পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করা
এক নেতা বলেন,
“সরকারি গাড়িচালক ১২তম গ্রেডে, আমরা পাই ১৩তম—এটা কি ন্যায্য?”
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান অব্যাহত
সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকরা শহীদ মিনারে সমবেত হন। তারা জানান, দাবিপূরণের লিখিত নিশ্চয়তা ছাড়া স্থান ছাড়বেন না।
দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষক সংখ্যা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী:
-
বিদ্যালয়: ৬৫ হাজারের বেশি
-
শিক্ষক: ৩ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি
গত এপ্রিল মাসে প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হলেও সহকারী শিক্ষকরা নিজেদের দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাথমিক শিক্ষকরা শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি নির্মাণ করেন— তা সত্ত্বেও বেতন বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে এবার তারা আবারও রাজপথে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
