অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন,
“আমরা গত ১৫ মাস ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখন জনগণই মূল্যায়ন করবে— আমরা কতটা সফল হতে পেরেছি, কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে।”
শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দৈনিক নয়াদিগন্ত-এর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খালিদ বলেন,
“আমার কাজ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কেউ কেউ বলছেন, আমরা সেফ এক্সিট চাই— কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার কোনো নিরাপদ প্রস্থানের প্রয়োজন নেই। আমি সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করি।”
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তী সরকারে টেকনোক্র্যাট হিসেবে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন। তবে তিনি এমন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না বলেও উল্লেখ করেন।
“যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আমাকে মন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানালে আমি তা সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করবো,” — যোগ করেন তিনি।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন,
“আমি আমার মন্ত্রণালয় থেকে কোটি কোটি টাকা দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, শ্মশান ও এতিমখানায় বরাদ্দ দিয়েছি। এগুলো সব সরকারি বরাদ্দ— কোনো ব্যক্তিগত অনুদান নয়। এই অর্থ দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যয় করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, হাজিদের সুবিধার জন্য ৮ কোটিরও বেশি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে, এবং হজ এজেন্সিগুলোর আটকে থাকা ৩৯ কোটি টাকা সৌদি আরব থেকে দেশে এনে বিতরণ করা হয়েছে।
“আমরা দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করার চেষ্টা করছি। এক-দেড় বছরে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি,” — বলেন উপদেষ্টা।
সম্প্রীতির গুরুত্ব উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন,
“সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় না থাকলে রাষ্ট্রের অগ্রগতি সম্ভব নয়। আমি সম্প্রতি চট্টগ্রামে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ‘কঠিন চীবরদান’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রাখাই আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি ফেসবুকে নিজের মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব নিয়েও মন্তব্য করেন—
“অনেকে লিখেছে আমি মারা গেছি! আমি হাসলাম। একদিন সবাই মরবো, কিন্তু এখনো বেঁচে আছি, দায়িত্ব পালন করছি।”
শেষে তিনি বলেন,
“আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি। তারা দেখবে, বিচার করবে আমরা কতটা করতে পেরেছি। আমার হাতে কোনো দুর্নীতির ছোঁয়া নেই— এটিই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
