বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, দাম বাড়াতে চাপ রিফাইনারদের

বাংলাদেশ

অর্থনীতি প্রতিবেদক | 

দেশের বাজারে আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী পণ্য দিচ্ছে না, ফলে বাজারে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার মুদি দোকান ও সুপার শপে ঘুরে দেখা গেছে, এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না প্রায়ই। অনেক দোকানে শুধু পাঁচ লিটারের বোতল সরবরাহ করা হচ্ছে, আবার কোথাও কেবল এক লিটারের বোতল মিলছে।

চট্টগ্রামের কাজিরদেউরি বাজারের দোকানি শামসুল ইসলাম বলেন,

“আগের দামেই তেল বিক্রি করছি, কিন্তু কোম্পানিগুলো চাহিদা মতো তেল দিচ্ছে না। সপ্তাহজুড়ে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের এক ও দুই লিটারের তেল পাইনি।”

একই অভিযোগ করেছেন জীবন গ্রোসারির মালিক ইসমাইল হোসেন। তার ভাষায়,

“দাম না বাড়লেও সরবরাহ কমে গেছে। কোম্পানিগুলো যেভাবে তেল পাঠাচ্ছে, তাতে ক্রেতার চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, সামনে আরও সংকট হতে পারে।”

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৩ অক্টোবর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে ১৯৫ টাকা করার প্রস্তাব দেয়। খোলা সয়াবিনে তিন টাকা এবং পাম তেলে ১৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবও ছিল। তবে সরকারের অনুমোদন না মেলায় প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বৃদ্ধিতে অনুমোদন না পাওয়ায় মিল মালিকরা পরিকল্পিতভাবে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছেন। এতে গত এক সপ্তাহ ধরে বাজারে বোতলজাত তেলের ঘাটতি প্রকট হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশে ১১ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্য তেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল) আমদানি হয়েছে, যা দেশের বার্ষিক চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট।

দেশে বছরে প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। তার মধ্যে শুধু জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানিই হয়েছে মোট চাহিদার অর্ধেকের বেশি। তবুও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, “রিফাইনার কোম্পানিগুলো দাম বৃদ্ধির অনুমোদন না পেয়ে বাজারে তেল আটকে রেখেছে, যাতে পরে দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি করা যায়।”

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত দুই মাসে সয়াবিন তেলের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজির দাম ১.০৫ থেকে ১.১০ ডলার এর মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে, যা স্থানীয় বাজারের সরবরাহ সংকটের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

আমদানি ও রিফাইনিংয়ের সঙ্গে যুক্ত সিটি গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, সেনা এডিবল অয়েলসুপার অয়েল রিফাইনারিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *