আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারো ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। স্থানীয় সময় রোববার রাতে একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা ও খান ইউনুস। ফিলিস্তিনি সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ৪৫ জন নিহত ও দশকের বেশি আহত হয়েছেন এই হামলায়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী স্থাপনা ও টানেল লক্ষ্য করে’ অভিযান চালিয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসন বলছে, হামলাগুলো হয়েছে বসতবাড়ি ও শরণার্থী ক্যাম্পে, যেখানে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।
যুদ্ধবিরতির অচলাবস্থা:
এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি আবারও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, “নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় গাজায় যুদ্ধবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল, তবে এখন তা পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে।”
তবে ফিলিস্তিনি পক্ষ দাবি করেছে, এই ‘পুনঃকার্যকর’ ঘোষণা বাস্তবে কোনো শান্তি আনেনি; বরং রাফা ও দেইর আল-বালাহ এলাকায় এখনো ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রোববার রাতের হামলায় ২০টিরও বেশি স্থানে বোমাবর্ষণ হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে এখনো নিখোঁজ রয়েছে বেশ কয়েকজন।
অন্যদিকে, গাজা মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
উভয় পক্ষের দাবি:
ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, রাফায় তাদের দুই সদস্য নিহত হওয়ার পর তারা ‘প্রত্যুত্তরমূলক হামলা’ চালিয়েছে।
অন্যদিকে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড জানায়, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলছে এবং রাফা এলাকায় তাদের কোনো সামরিক অভিযান হয়নি।
বিশ্লেষণ:
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় এ ধরনের সংঘর্ষ আবারও শান্তিচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে। একদিকে মানবিক সহায়তা বন্ধের ঘোষণা, অন্যদিকে পুনঃআক্রমণ—এতে যুদ্ধবিরতি এখন আরও অনিশ্চিত অবস্থায় দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
