অনলাইন ডেস্ক | অর্থনীতি সংবাদ
বাংলাদেশের পোশাক খাত আবারও বড় ধাক্কায় পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের প্রভাবে টানা দুই মাস ধরে কমছে রপ্তানি আয়। গত আগস্টে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমেছে পোশাক রপ্তানি—যা নিয়ে শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে ক্রেতারা আগের তুলনায় অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন। একসময় যেখানে ১০ পিস পোশাক অর্ডার দিতেন, এখন সেখানে ৫ পিসের বেশি নিচ্ছেন না। ফলে উৎপাদন ও শিপমেন্ট উভয় দিকেই ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)–এর পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এখন প্রায় ৩৬ শতাংশ। এতে করে ক্রেতারা বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজছেন। ভারত ও চীন ইতোমধ্যে ইউরোপের বাজারে দখল নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে, যেখানে তারা কম দামে অর্ডার নিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের শেয়ার কমছে।”
এদিকে, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, নতুন শুল্ক পরিস্থিতির কারণে বেশির ভাগ ক্রেতাই নতুন করে অর্ডার দিচ্ছেন না। বরং পাল্টা শুল্কের বাড়তি চাপ কিছুটা সরবরাহকারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছেন। “এ অবস্থায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অথচ বিক্রি কমছে—যা রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ,” বলেন তিনি।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শুধু ইউরোপ ও আমেরিকা নির্ভর রপ্তানি কাঠামো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলে বিকল্প বাজার তৈরির ওপর এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।
অর্থনীতিবিদ মো. মাজেদুল হক বলেন, “পোশাক রপ্তানিকে কেন্দ্র করে একটি নতুন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে দক্ষতা দেখিয়ে রপ্তানির নতুন পথ খুঁজতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতি হবে।”
শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক-সংকটের এই প্রভাব কাটিয়ে উঠতে নীতিগত সহায়তা, রপ্তানি বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তি-নির্ভর উৎপাদনে দ্রুত রূপান্তরই হতে পারে একমাত্র সমাধান।
ডেইলি নবসংবাদ অনলাইন / রাশেদ হোসাইন (অর্থনীতি প্রতিনিধি)
